ইউটিউব বয়স যাচাই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, আগস্ট ২০, ২০২৫ ৭:০৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, আগস্ট ২০, ২০২৫ ৭:০৬ অপরাহ্ণ

ইউটিউব বয়স যাচাই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। শিশুদের সুরক্ষা, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা নিয়ে জানুন বিস্তারিত।
বয়স শনাক্তকরণ এখন আরও উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করেছে গুগলের মালিকানাধীন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটি। সংবেদনশীল ও প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা ও অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এ কারণেই ইউটিউব বয়স অনুমান বা বয়স শনাক্তকরণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
ইউটিউব বয়স যাচাই নতুন এআই ব্যবস্থা
তারা জানিয়েছে, তারা ‘মেশিন লার্নিং’ নামের একটি বিশেষ এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের বয়স অনুমান করতে সক্ষম। ব্যবহারকারী কী ধরনের ভিডিও দেখে, কতদিন ধরে তার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে এবং বিভিন্ন ব্রাউজিং অভ্যাস—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউটিউব বয়স নির্ধারণ করা হবে।
এতে করে শুধু জন্ম তারিখের উপর নির্ভর না করে, ব্যবহারকারীর প্রকৃত বয়স অনুমান করা যাবে। ফলে যদি কোনো শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়, তাও এই এআই পদ্ধতি তা শনাক্ত করতে পারবে।
কীভাবে কাজ করে ইউটিউব বয়স অনুমান প্রযুক্তি
ইউটিউবের ইয়ুথ বিভাগের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট পরিচালক জেমস বেসার জানিয়েছেন, এআই প্রযুক্তি শুধু জন্ম তারিখ যাচাই করে না, বরং ব্যবহারকারীর কনটেন্ট ব্যবহারের ধরনও পর্যবেক্ষণ করে।
যদি কোনো ব্যবহারকারীর বয়স নিয়ে সন্দেহ হয়, তখন তাকে নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। এরপর বয়স যাচাইয়ের জন্য ক্রেডিট কার্ড, সেলফি অথবা সরকারি পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার অপশন থাকবে।
এভাবে বয়স যাচাইয়ের নতুন প্রযুক্তি কেবল শিশুদের জন্যই নয়, বরং পুরো প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা জোরদার করবে।
শিশুদের সুরক্ষায় ইউটিউবের উদ্যোগ
শিশুরা প্রায়ই ইউটিউবে এমন ভিডিও দেখে যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই ইউটিউব বয়স যাচাইয়ের মাধ্যমে শিশুদের প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে চারজন ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখেছে বলে স্বীকার করেছে।
শুধু ইউটিউব নয়, টিকটক, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও একই সমস্যায় ভুগছে।
এই কারণেই এআই ব্যবহার করে বয়স নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কঠোর আইন ও ইউটিউব ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা
অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।
এই আইন অনুযায়ী ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক—সবগুলো প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এই আইন ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা বিশ্বের অন্যতম কঠোর আইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউটিউব জানিয়েছে, তারা আইন মানতে বাধ্য থাকবে তবে একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাও উন্নত করার চেষ্টা করবে।
ইউটিউব বয়স যাচাই বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বয়স যাচাই প্রযুক্তি শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, অন্যান্য দেশেও আলোচনায় এসেছে। অনেক দেশ এই ধরনের আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে।
ফলে ভবিষ্যতে ইউটিউবসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বয়স নির্ধারণ প্রযুক্তি একটি বাধ্যতামূলক ধাপ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই-ভিত্তিক এই বয়স অনুমান ব্যবস্থা শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে।
উপসংহার
ডিজিটাল যুগে শিশুদের নিরাপত্তা ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ইউটিউব বয়স যাচাই প্রযুক্তি সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
এআই নির্ভর বয়স অনুমান ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে বড় অবদান রাখবে।
ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী আইন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইউটিউব বয়স যাচাই আরও উন্নত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ