ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী তৌফিক আলাও-ই

Published: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০ ৬:০২ অপরাহ্ণ   |   Modified: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০ ৬:০২ অপরাহ্ণ
 

স্বাধীন খবর ডট কম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ব্যাপক সহিংসতা আর প্রতিবাদ বিক্ষোভের পর, অবশেষে মোহাম্মদ তৌফিক আলাও-ই’কে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ইরাকি প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ।

সাধারণ ইরাকিদের সকল ক্ষমতা উৎস হিসেবে আখ্যা দিয়ে, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ইরাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগকে কেন্দ্র দেশটির সাধারণ মানুষদের মধ্যে মিত্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দীর্ঘ চার মাসের সহিংস বিক্ষোভ। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ। আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে কয়েক হাজার ইরাকি। বিক্ষোভ শুরুর পর পদত্যাগ করেছিলেন তৎকালীন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল মাহদি।

কিন্তু এতেও শান্ত হননি প্রতিবাদীরা। রাজনৈতিক ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন এমন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানায় তারা।

সাধারণ মানুষের দাবির মুখে অবশেষে নতুন প্রধানমন্ত্রী পেল ইরাক। মোহাম্মদ তৌফিক আলাও-ই’কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ইরাকি প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ। দায়িত্ব পাওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আলাও-ই।


মোহাম্মদ তৌফিক আলাও-ই বলেন, এটা আমার জন্য ঐতিহাসিক এক দায়িত্ব। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, গণতন্ত্রিপন্থী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের রক্ত বিফলে যেতে পারে না। সেইসঙ্গে যারা দোষী তাদেরকেও উপযুক্ত শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।
এই রাষ্ট্রের অস্ত্র আর সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না। এখন থেকে অস্ত্র ব্যবহার করা হবে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে, সীমান্ত সুরক্ষা করতে এবং দেশের সম্মান বাজায় রাখতে।

তবে আলাও-ই’কে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরাকের সাধারণ মানুষ। কেউ তাকে স্বাগত জানিয়েছেন আবার সাধারণ মানুষের একাংশ মোহাম্মদ আলাও-ই’কে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তারা বলেন, আলাও-ইকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ আগের প্রধানমন্ত্রীর মতো সে-ও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ক্ষমতাসীন দল তাকে সমর্থন দিয়েছে।

প্রত্যেক ইরাকি নাগরিককে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সমর্থন দেওয়া উচিত। কারণ চলমান সঙ্কট সামাধানে এবং দেশকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে প্রধানমন্ত্রীর পদটি এখনই পূরণ হওয়া উচিত।

এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর বাগদাদের তাহরির স্কয়ারে জড়ো হয়ে আবারো বিক্ষোভ শুরু করেছে ইরাকি শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সদরের অনুসারীরা। অবিলম্বে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানায় তারা।

তারা বলছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না, আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হবে, আমারা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবো।

এই ঐতিহাসিক স্কয়ার থেকে আমরা জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানাবো, যাতে তারা প্রতিবাদকারীদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখে।

দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা না হলে, নতুন করে আবারো বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তারা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
 
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com