সরকার ওষুধশিল্পে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ৩, ২০২৫ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ৩, ২০২৫ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ওষুধশিল্পে ঝুঁকি সরকার মালিকদের বাদ দিয়ে ওষুধনীতি গ্রহণ করায় শিল্পে উদ্বেগ, মালিকেরা দ্রুত ওষুধ অনুমোদনের দাবি তুলছেন।
ওষুধশিল্পে ঝুঁকি: সরকারের নীতিতে উদ্বিগ্ন মালিকেরা
ওষুধশিল্পে ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ওষুধ খাতে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই। এর ফলে একদিকে যেমন শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশে ওষুধ সরবরাহ ও দাম নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি (বাপি) কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় এসব উদ্বেগের কথা জানান শিল্পমালিকেরা। বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের উদ্যোগে এবং বাপির সহায়তায় এই সভার আয়োজন করা হয়।
মালিকদের দাবি: দ্রুত এক হাজার ওষুধ অনুমোদন দিন
মতবিনিময় সভায় বাপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ ওষুধে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের প্রয়োজনের ৯৮% ওষুধ আমরা নিজেরাই উৎপাদন করি এবং রপ্তানিও করছি। কিন্তু সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত শিল্পের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করতে পারে।”
সমিতির সহসভাপতি ও রেনাটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ কায়সার কবির বলেন, “স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তগুলো শিল্পকে আশির দশকের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে।”
বাপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক হাজারের মতো ওষুধের অনুমোদন প্রদান করে। এতে দেশের ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
মালিকদের অভিযোগ: গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব নেই
ওষুধশিল্পের নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের গঠিত ১৮ সদস্যের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ টাস্কফোর্সে মালিকদের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। শুধু তাই নয়, ওষুধের দাম নির্ধারণ কমিটিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতেও তাঁদের কোনো অংশগ্রহণ নেই। পূর্বে এসব কমিটিতে শিল্প প্রতিনিধিরা থাকতেন।
বাপির কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান বলেন, “মনে হচ্ছে ওষুধশিল্পকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংকটে ফেলা হচ্ছে। সরকার যদি শিল্পের সঙ্গে আলোচনায় না আসে, তাহলে বিপদ আসন্ন।”
ওষুধশিল্পে ঝুঁকি রপ্তানি, উৎপাদন ও কাঁচামাল নির্ভরতা
বাংলাদেশ বর্তমানে দেড় শতাধিক দেশে ওষুধ রপ্তানি করে। তবুও ওষুধের ৯০% কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ প্রসঙ্গে বাপির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, “গজারিয়ার এপিআই শিল্প পার্কের প্লটগুলো ছোট হওয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্লট একত্র করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্যাস সংযোগ না থাকায় কাঁচামাল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।”
ওষুধশিল্পে ঝুঁকি নকল ওষুধের ভয়াবহতা
শিল্পমালিকেরা স্বীকার করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নাম ব্যবহার করে নকল ওষুধ বাজারজাত করছে। এই চক্র গ্রামাঞ্চলেও সক্রিয়। নকল ওষুধ সাধারণ মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনছে।
মেধাস্বত্ব ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি
বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকায় ওষুধের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব থেকে ছাড় পাচ্ছে। এতে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে গেলে এই সুবিধা আর থাকবে না।
মো. জাকির হোসেন বলেন, “তালিকা থেকে বের হয়ে গেলে ওষুধের দাম বেড়ে যাবে। বিশেষ করে নতুন ওষুধের নিবন্ধন ব্যয়বহুল হবে।”
ওষুধশিল্পে ঝুঁকি সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও মালিকদের জবাব
সাংবাদিকেরা জানতে চান, বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সমস্যা কাঁচামালের বিষয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলো কী করছে। মালিকেরা জানান, বর্তমানে উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও কাঁচামালের জন্য আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। এপিআই পার্কের সমস্যা না কাটলে এই নির্ভরতা কমবে না।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কনীতি ওষুধশিল্পের জন্য ভালো না খারাপ হবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভবিষ্যৎ করণীয়: নীতিগত স্বচ্ছতা ও সহযোগিতা জরুরি
ওষুধশিল্পে ঝুঁকি হ্রাস করতে হলে সরকারকে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন দ্রুত ওষুধ অনুমোদন, কার্যকর কমিটি গঠন এবং নকল ওষুধ রোধে কঠোর ব্যবস্থা। একই সঙ্গে কাঁচামাল উৎপাদনে দেশীয় উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
এই খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ