• আজ সকাল ৬:৪৭, শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি
  • shadinkhobor24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কম্পিউটার বেসিক নলেজ জানুন এক নিমিষে

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৩ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৩ ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

 

কম্পিউটার কি?

কম্পিউটার (Computer) শব্দটি এসেছে কম্পিউট(Compute) শব্দ থেকে। কম্পিউট(Compute) একটি গ্রীক শব্দ যার অর্থ গননা করা। কিন্তু এখনকার দিনে কম্পিউটার শুধুমাত্র গননা করার কাজে ব্যবহৃত হয়না। কম্পিউটার এর কাজ এখন অনেক ব্যাপক।

কম্পিটারের আধুনিক সংজ্ঞা এভাবে দেয়া যেতে পারে, কম্পিউটার এমন একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিভিন্ন রকম তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং নানা উপায়ে গৃহীত তথ্যকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত গতিতে তা বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারিকে সরবরাহ করে থাকে।

কম্পিউটার বেসিক নলেজ জানুন এক নিমিষে

চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়। তার তৈরি করা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনই প্রথম পাঞ্চ কার্ড দিয়ে মেমোরি ব্যবহার করে। আর বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার আসে ১৯৬৪ সালে।

কম্পিউটার নিয়ে আপনি যদি জানতে চান তাহলে আপনাকে কম্পিউটারের নানা প্রকার যন্ত্র সম্পর্কে জানতে হবে। প্রাথমিকভাবে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যা হলঃ

ইনপুট ডিভাইস
আউটপুট ডিভাইস
সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট
মেমোরি

কম্পিউটার যেসকল যন্ত্রের মাধ্যমে ডাটা বা তথ্য সংগ্রহ করে থাকে তাকে বলা হয় ইনপুট ডিভাইস। একটু মনে করে দেখুন ত কম্পিউটার তার কোন কোন ডিভাইস বা যন্ত্রের মাধ্যমে তথ্য গ্রহন করে থাকে। হ্যা, আপনি ঠিকই ধরেছেন। ইনপুট ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে মাউস, কিবোর্ড, বারকোড রিডার, ফিংগার প্রিন্ট রিডার, স্ক্যানার ইত্যাদি।

কম্পিউটার যেসকল যন্ত্রের মাধ্যমে ডাটা বা তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রসেসিং করার পর ইউজারকে প্রদান করে থাকে তাই আউটপুট ডিভাইস। কম্পিউটারের জনপ্রিয় কয়েক আউটপুট ডিভাইসগুলোর মধ্যে রয়েছে মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার ইত্যাদি।

কম্পিউটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (Central Processing Unit) বা সংক্ষেপে যাকে বলে সিপিইউ (CPU)। মূলত এই অংশটিই গৃহীত তথ্যগুলোকে প্রসেসিং করে ইউজারকে প্রদান করে থাকে।

মেমোরি বা স্মৃতি হল কম্পিউটারের বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত জমা রাখার জায়গা। কম্পিউটারের তথ্য-উপাত্ত জমা রাখার জন্য সাধারণত যে ডিভাইসটি ব্যবহার করা হয় তা হল হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ (HDD)। এটা কম্পিউটারের স্থায়ী মেমোরি। এছাড়াও আরও একটি মেমোরি প্রয়োজন হয় যাকে বলে র‍্যাম (RAM)। এটি মূলত আস্থায়ি মেমোরি। মেমোরি সবমিলিয়ে তিন প্রকার হয়ঃ

হার্ডডিস্ক (HDD)
র‍্যাম (RAM)
রম (ROM)

কম্পিউটারের প্রধান দুইটি অংশ হলঃ

হার্ডওয়্যার
সফটওয়্যার

সহজ ভাষায় বলি একটি কম্পিউটারের যে সকল অংশ আপনি দেখতে পাচ্ছেন তাই কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার। এই যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যায় মনিটর, মাউস, প্রিন্টার, কিবোর্ড, স্ক্যানার ইত্যাদি সব। অর্থাৎ সকল কম্পিউটারের যন্ত্রাংশই হল কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার।

সিস্টেম সফটওয়্যার
এপ্লিকেশন সফটওয়্যার

সিস্টেম সফটওয়্যার হল এমন কিছু যা প্রোগ্রাম কিংবা প্রোগ্রামের সমষ্টি যা কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশকে একত্রিত করে কাজের সমন্বয় রক্ষা করে ব্যবহারকারিকে কাজের পরিবেশ প্রদান করে থাকে। এখনকার সময়ের জনপ্রিয় কিছু সিস্টেম সফটওয়্যার হল লিনাক্স, ম্যাকএস, উইন্ডোজ ইত্যাদি।

বিভিন্ন রকম ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান করা বা বিভিন্ন রকম তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত প্রোগ্রামকে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। এসব এপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপনি প্রয়োজন মত বিভিন্ন রকম কাজ করতে পারবেন। যেমন- মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এপ্লিকেশনের মাধ্যমে আপনি লেখালেখির কাজ করতে পারবেন, মিডিয়া প্লেয়ারের মাধ্যমে আপনি ভিডিও দেখতে ও গান শুনতে পারবেন, এডোবি ফটোসপের মাধ্যমে আপনি ছবি এডিটের কাজ করতে পারবেন, অটোক্যাড দিয়ে আপনি বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন করতে সক্ষম হবেন।

হার্ড ডিস্ক ড্রাইভঃ এতে ডাটা সংরক্ষন করা হয়। এটা কেন্দ্রীয় তথ্য সংরক্ষন ব্যবস্থা। রিড এবং রাইট দুইই করা যায়।

প্রসেসরঃ সকল ডাটা এখানে প্রসেসিং করা হয়। মানুষের ব্রেইনের সাথে তুলনা করা হয়।

পাওয়ার সাপ্লাইঃ পাওয়ার সাপ্লাই বক্স সকল যন্ত্রাংশকে প্রয়োজন মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। মনে রাখবেন সকল যন্ত্রাংশ সমান পাওয়ার নেয় না। পাওয়ার সাপ্লাই বক্স তাই প্রয়োজন অনুসারে পাওয়ার দিয়ে থাকে।

মাদার বোর্ডঃ এখানে সকল যন্ত্রাংশ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হয়।

গ্রাফিক্স কার্ডঃ মাদারবোর্ডের সাথে মনিটরের কানেক্টিভিটি করে গ্রাফিক্স কার্ড। গ্রাফিকাল সকল কাজ এই যন্ত্রাংশ করে থাকে। এর ক্যাপাসিটি কম বেশি হতে পারে।

সাউন্ড কার্ডঃ স্পিকারের সাথে মাদারবোর্ডের কানেক্টিভিটি তৈরি করে থাকে। সাউন্ড প্রসেস করে এই যন্ত্র। ভাল সাউন্ড কার্ডে ভাল সাউন্ড ইফেক্ট পাওয়া যায়।

র‍্যামঃ এটি অস্থায়ী মেমোরি। কাজের সময় যতটুকু প্রয়োজন হয় ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করা হয়।

সিডি/ডভিডি রমঃ এটাও ডাটা স্টোরেজের জন্য তবে এটি রিড অনলি মেমোরি। শুধু রিড করা যায় রাইট করা যায়না।

মনিটরঃ এটা একটি আউটপুট ডিভাইস। ব্যবহারকারি এখানে তার আউটপুট দেখতে পায়।

স্পিকারঃ এটা একটি আউটপুট ডিভাইস। ব্যবহারকারি এখানে তার আউটপুট শুনতে পায়।

কিবোর্ড ও মাউসঃ এটা একটি ইনপুট ডিভাইস। ব্যবহারকারি এর মাধ্যমে তথ্য ইনপুট দিয়ে থাকে

প্রিন্টার ও স্ক্যানারঃ এটা একটি আউটপুট ডিভাইস। এর মাধ্যমে আউটপুট নিয়ে থাকে।

কম্পিউটার তার ইউজার বা ব্যবহারকারির কাছ থেকে তথ্য গ্রহণ করে এবং তার সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটে সেই ডাটা বা তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে আবার ব্যবহারকারিকে রেজাল্ট আকারে ফেরত দেয়। যেমন আপনি যদি একটি ক্যাল্কুলেটরে ২+২ চাপেন তাহলে ক্যালকুলেটর তার ডিসপ্লেতে রেজাল্ট দেখাবে ৪। ব্যাপারটি আসলে এরকমই।

যদি বলি কম্পিউটার আসলে ০ আর ১ ছাড়া আর কিছুই বুঝেনা, আপনি কি অবাক হবেন? অবশ্যই অবাক করার মতই ব্যাপার। আর এই ০ আর ১ হল বিদ্যুতের উপস্থিতি আর অনুপস্থিতি। একে বলে বাইনারি সংখ্যা। কম্পিউটার আসলে এই দুইটি জিনিষ ছাড়া আর কিছুই জানেনা।
এটা আসলে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ। এছাড়া বিভিন্ন সফটওয়্যার বা এপ্লিকেশন লেখা হয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে। যেমন- সি, সি+, সি++ ইত্যাদি। আগে এই বিষয়গুলো পুরাটাই কোড নির্ভর ছিল। কিন্তু এখনকার দিনে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজগুলোর গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস আছে। ফলে ব্যাপারটি এখন আগে চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট আসলে কম্পিউটারকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণতা প্রদান করেছে, ইন্টারনেট সারা পৃথিবীর সকল কম্পিউটারকে একসাথে সংযুক্ত করেছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডাটা আদান-প্রদান করতে সক্ষম হই। এজন্য প্রতিটি কম্পিউটারের একটি এড্রেস বা ঠিকানা থাকে একেই বলা হয় আইপি এড্রেস (Internet Protocol Address)।

ইলেকট্রনিক মেইল বা ইমেইল হল ইন্টারনেটের এক অভাবনীয় আবিস্কার। এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ইলেক্ট্রনিক উপায়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করাটাই আসলে ইমেইল।

Print Friendly, PDF & Email
 
 
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com