তুর্কি সীমান্তে নতুন করে শরণার্থীদের ঢল,রাশিয়া-তুরস্ক আলোচনা

Published: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৯ ৬:১৫ অপরাহ্ণ   |   Modified: সোমবার, জানুয়ারি ২০, ২০২০ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
 

স্বাধীন খবর ডট কম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিবে সরকারি বাহিনীর তীব্র অভিযানের জেরে তুর্কি সীমান্তে নতুন করে শরণার্থীদের ঢল নামায়, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে মস্কো পৌঁছেছে তুরস্কের একটি প্রতিনিধি দল। এরমধ্যেই, ইদলিবে রাশিয়া সমর্থিত বিদ্রোহীবিরোধী অভিযানের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মস্কোয় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সিরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়াল্লেম। এদিকে, সিরীয় বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় এখনও ইদলিব ছাড়ছেন হাজারো বাসিন্দা।

গেল কয়েকদিন ধরে সিরিয়ার ইদলিবে বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে সরকারি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় প্রতিদিনই ঘরবাড়ি ছাড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সংস্থাগুলো জানায়, বিমান হামলা জোরদারের পর থেকে এ পর্যন্ত ইদলিব ছেড়েছেন প্রায় ১ লাখ বাসিন্দা। জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছেন তুর্কি সীমান্তে। তবে, নতুন করে শুরু হওয়া শরণার্থীদের এই ঢল তুরস্কের একার পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব নয়- তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের এমন বক্তব্যে বিপাকে পড়েছেন ঘরবাড়ি ছাড়া হাজার হাজার অসহায় মানুষ।

এর মধ্যেই, তুর্কি সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল বাড়তে থাকায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে সোমবার মস্কো সফরে গেছেন তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। তুর্কি সীমান্তে নতুন করে শুরু হওয়া শরণার্থীদের ঢল তুরস্কের পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব নয়, দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বক্তব্যের একদিন পরই রাশিয়া পৌঁছেছে প্রতিনিধি দলটি। সফরে, ইদলিবে রুশ সমর্থিত সিরীয় বাহিনীর বিমান হামলা বন্ধে মস্কোর প্রতি আহ্বান জানানো হবে বলে জানা গেছে।

তবে, তুর্কি সীমান্তে শরণার্থীদের ঢলের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে সিরীয় বাহিনীর বিমান হামলাকে দায়ী করা হলেও, দামেস্ক বলছে সরকারি বাহিনীর অভিযান নয়, ইসরাইলের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণেই ইদলিবে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সোমবার, মস্কোয় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সিরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ মুয়াল্লেম। অন্যদিকে, ইদলিবকে বিদ্রোহীমুক্ত করার মধ্য দিয়ে গোটা সিরিয়ার জীবনযাত্রা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তুরস্কের যৌথ চক্রান্তে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল আজ গভীর সংকটের মুখে। তাদের আগ্রাসনরে কারণেই মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়ছেন। অথচ দোষ চাপাচ্ছে আমাদের ওপর। আমাদের অভিযান সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়, এই অভিযান আল নুসরাসহ বিদ্রোহী সন্ত্রাসীগোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে।

এদিকে, সোমবারও ইদলিবে অব্যাহত ছিল বিদ্রোহীবিরোধী অভিযান। অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে, ইদলিবের মারেত আল নুমান এলাকায় বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হতে দেয়া যায়। হামলার পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পুরো এলাকা। তবে, এসব হামলায় হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
 
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com