ফেসবুকে ইলিশ প্রতারণা: নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার ২
নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ৯, ২০২৫ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ৯, ২০২৫ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

ফেসবুকে ইলিশ প্রতারণা মামলায় নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার ২ জন। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতানো হয় দুই লাখ টাকা, উদ্ধার মোবাইল ও সিম।
অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, কেনাবেচার একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মও হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর সাথে সাথে প্রতারণার ঘটনাও দিন দিন বাড়ছে।
সম্প্রতি রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় বসবাসকারী একজন ব্যক্তি ফেসবুকের একটি পেজে ইলিশ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ফেসবুকে ইলিশ প্রতারণা মামলায় পুলিশ নড়াইল জেলা থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ফেসবুকে ইলিশ প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীর গল্প
গত ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগী তাঁর মোবাইল ফোনে ফেসবুক ব্যবহার করছিলেন। এ সময় তিনি “চাঁদপুর ইলিশ ঘাট” নামের একটি পেজে আকর্ষণীয় ইলিশ মাছ বিক্রির
বিজ্ঞাপন দেখতে পান। বিজ্ঞাপনে দেওয়া হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রতারকেরা তাঁকে বিভিন্ন কৌশলে প্রলুব্ধ করে।
ভুক্তভোগী ইলিশ কেনার উদ্দেশ্যে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারকের দেওয়া কয়েকটি নম্বরে টাকা পাঠান।
ধাপে ধাপে প্রতারকেরা তাঁর কাছ থেকে মোট দুই লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে তিনি নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তারের অভিযান
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মামলাটি তদন্তের সময় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এরপর নিউমার্কেট থানার একটি আভিযানিক দল ৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নড়াইল সদর থানার রতনগঞ্জ বাজার থেকে প্রথম আসামি মো. সিফাত মোল্লা (২৫) কে গ্রেপ্তার করে।
পরদিন ৮ আগস্ট ভোর সোয়া ৫টার দিকে একই জেলার কালিয়া থানা এলাকা থেকে দ্বিতীয় আসামি মো. মাসুম বেগ (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামত
গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন এবং একটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই মোবাইলগুলো ব্যবহার করে তারা ফেসবুক পেজ পরিচালনা, হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতো।
পুলিশের সতর্কবার্তা
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনলাইনে কেনাকাটার সময় ক্রেতাদের আরও সতর্ক হতে হবে। অচেনা পেজ বা প্রোফাইল থেকে পণ্য কেনার আগে বিক্রেতার পরিচয় যাচাই করা জরুরি।
বিশেষ করে বড় অঙ্কের টাকা অগ্রিম পরিশোধ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন প্রতারণার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা
বাংলাদেশে অনলাইন প্রতারণা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে ফেসবুক মার্কেটপ্লেস ও বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে।
অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রতারণা হয় কল্পিত অফারের মাধ্যমে, যেখানে কম দামে আকর্ষণীয় পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখানো হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থাগুলোর একসাথে কাজ করা প্রয়োজন।
ফেসবুকে ইলিশ প্রতারণা ঠেকাতে করণীয়
- বিক্রেতার রিভিউ যাচাই করুন: পেজ বা প্রোফাইলে আগের ক্রেতাদের মন্তব্য পড়ুন।
- নগদে লেনদেন করুন: সম্ভব হলে হাতে পণ্য পাওয়ার পর টাকা দিন।
- অতিরিক্ত প্রলোভন এড়িয়ে চলুন: বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে পণ্যের প্রস্তাব সাধারণত সন্দেহজনক।
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন: বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল সাইট বা অ্যাপ থেকে কেনাকাটা করুন।
উপসংহার
ফেসবুকে ইলিশ প্রতারণা ঘটনার এই উদাহরণ আবারও প্রমাণ করে, অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় সতর্কতা জরুরি।
প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবনে সুবিধা এনে দিয়েছে, তেমনি সুযোগ নিয়েছে প্রতারকেরাও।
সঠিক সচেতনতা এবং সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচা সম্ভব।
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ