• আজ সকাল ৯:১৮, বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
  • shadinkhobor24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফ্রান্সে অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদে আটকের আইন বেআইনি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ৯, ২০২৫ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ৯, ২০২৫ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

ফ্রান্সে অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদে আটকের আইন বেআইনি ঘোষণা
 

ফ্রান্সে ‘বিপজ্জনক’ বিবেচিত বিদেশি অভিবাসীদের ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘমেয়াদে আটক রাখার বিধান এক রায়ে বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির সাংবিধানিক কাউন্সিল তথা লো কনসেই কনস্টিটিউসিওনেল। সম্প্রতি দেয়া এক রায়ে এ কথা বলেছে সাংবিধানিক কাউন্সিল। এই আদালত মূলত ফরাসি সংসদ যেসব আইন পাস করে সেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা খতিয়ে দেখে।

নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিক গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন বা যারা জননিরাপত্তার জন্য ‘বিশেষভাবে বিপজ্জনক’ বলে বিবেচিত তাদের ৯০ দিনের বদলে ২১০ দিন পর্যন্ত সিআরএতে আটক রাখার বিধান রাখা হয়েছিল।

তবে সাংবিধানিক কাউন্সিল বলছে, এটি অনুপযোগী এবং সংবিধান লঙ্ঘনকারী সিদ্ধান্ত। সাংবিধানিক কাউন্সিলের এমন রায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রোতাইয়োর জন্য বড় ধাক্কা। এই রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আটকাদেশ বাড়ানোর পক্ষে পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বামপন্থী আইনপ্রণেতাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সাংবিধানিক কাউন্সিলে তোলা হয়। আদালতের রায়ে বলা হয়, যেসব ব্যক্তি দীর্ঘমেয়াদে আটক রাখার আওতায় পড়তেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা অনুপযুক্ত এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য পূরণে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বর্তমানে ২১০ দিন পর্যন্ত আটকের বিধান শুধু সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিতদের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু নতুন আইন অনুযায়ী, এটি মাদক পাচার, ধর্ষণ, হত্যা বা সহিংস চুরির মতো অপরাধে দণ্ডিত অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল।

সংবিধানিক কাউন্সিল বলেছে, কোনও বিদেশি নাগরিক যদি সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্স ছেড়ে যেতে না পারেন, তাহলে তাকে আটক রাখার সিদ্ধান্ত এমনভাবে নিতে হতে হবে, যাতে তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা অযৌক্তিকভাবে সীমিত না হয়।

অথচ নতুন আইন অনুযায়ী এমন অনেক অপরাধের ক্ষেত্রেও আটক প্রযোজ্য হতো যেগুলো ‌বিশেষভাবে গুরুতর নয়। এমনকি এমন অভিবাসীরাও এই আইনের আওতায় পড়তেন, যারা ইতোমধ্যে তাদের সাজা ভোগ করেছেন এবং আর কোনও সক্রিয় হুমকি বহন করেন না।

ফ্রান্সের অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা লা সিমাদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল ফানেলি কারে-কন্তে বলেন, এই সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যারা এই আইনটি পাস করেছিলেন তাদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা। একটি আইনের মাধ্যমে মানুষকে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। তিনি বলেন, এই আইনে একটি কঠোর নিরাপত্তামূলক নীতির পথে যাওয়া হচ্ছিল, যা ছিল অকার্যকর এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী।

তবে ডানপন্থি রাজনীতিবিদদের মতে এই সিদ্ধান্ত জননিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। ফরাসি সংসদের রক্ষণশীল এলআর দলের নেতা লরো ওয়াকিয়েজ বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে ১৮ মাস পর্যন্ত আটক রাখা যায়। কিন্তু ফ্রান্সে এখনো ৯০ দিনের বেশি আটকের অনুমতি নেই। সংবিধানিক কাউন্সিল ফরাসিদের আর রক্ষা করছে না।

  • বহাল কিছু ধারা
    আইনের যেসব ধারা সংবিধানিক কাউন্সিল বাতিল করেনি, তার মধ্যে রয়েছে আটকের সময় অভিবাসীর সম্মতি ছাড়া আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি নেওয়ার অনুমতি।
 
 
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ