*বাংলা ভাষা সাহিত্যে পরমাণু কবিতার প্রবেশ করতে উদ্যোগ এপার বাংলায়*

Published: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২০ ৩:৫০ অপরাহ্ণ   |   Modified: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২০ ৩:৫০ অপরাহ্ণ
 

স্বাধীন খবর ডট কম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

*সঞ্জয় কুমার মুখোপাধ্যায়*

 (টেবিল প্রতিবেদন)

বাংলা সাহিত্যে একটা অমোঘ ঋদ্ধিমান শাখা হলো কবিতা, এই কবিতা বিভিন্ন পন্থায় লেখা হয়ে থাকে। যেমন চতুষ্পদী, পঞ্চপদী, হাইকু, লিমেরিক, সনেট, গদ্য কবিতা আরও নানান প্রকারে লেখা হয়। সব ধরনের কবিতাই তার নিজ নিজ ব্যাকারণে ও নিয়মে লেখা হয়ে থাকে।  পরমাণু কবিতাও একটি ধরন, এরও কিছু সাধারণ নিয়ম আছে  আগে এই কবিতা নিয়ে তেমন চর্চা বা লেখা লেখি প্রচার, গবেষণা তেমন না হলেও বর্তমানে যুথিকা সাহিত্য পত্রিকার উদ্দ্যোগে ও সাহিত্যবন্ধু সোমনাথ নাগের প্রচেষ্টায় এবং প্রচারে “আন্তর্জাতিক বাংলা পরমাণু কবিতা লেখক সমিতি” নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খলা হয়েছে যেখানে এখন অনেকেই লেখা শুরু করেছেন, বেশ ভালো ভালো পরমাণু কবিতার রসস্বাদন করতে পারছেন আজকের পাঠকেরা। সাহিত্যবন্ধু সোমনাথ নাগের কথায় পরমাণু কবিতায় নির্মান একটি ভাবনার বিষয়কে উপস্থাপন করতে যথেষ্ট মুন্সিয়ানার পরিচয় বহন করতে হয় । ধারাবাহিক দৃশ্যমান অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ সৃষ্টিধারায় ৷ ব্যাপ্তি ও বিভিন্নতার প্রকারণ মনন ও যাপন স্বাদ বৈচিত্রের উপযোগিতার রসদ যোগায়, প্রচেষ্টার হাত ধরে উপভোক্তার মনে ৷ এই স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার সীমানা পেরিয়ে প্রচলিত ধারা ভেঙ্গে নতুন কিছু মৌলিক বিষয় সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে অতীত পেরিয়ে বর্তমান কবিতা নতুন অভিনবত্বের ছোঁয়ায় মোহিত করে তাক লাগিয়ে দিয়ে বাড়তি কৃতিত্বের দাবিদার হয়ে উঠতে পারে পরমাণু কবিরা। একথাটা সমস্ত পরমাণু কবিতা লেখকদের জন্য প্রযোজ্য ৷ পরমাণু আসলে সুক্ষ্মতার প্রতীক । যা ক্ষুদ্র সীমার মধ্যে থেকে অসীমের ব্যাপ্তি বা অসীমের সন্ধানে সক্ষম। লাইন সংখ্যা বা ছন্দমিলের কোন বাধ্যবাধকতা নেই, ক্ষুদ্র এই পরমাণু কবিতা  সর্বাধিক নয় (৯) শব্দের ফর্মুলায় কবিতা সৃষ্টি করে কবিতা পিপাসু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করতে ক্ষুদ্রের মধ্যে বৃহৎকে ধরার প্রয়াস৷ যার মধ্যে থাকবে ভাবের সম্পূর্ণতা অথচ মহত্ব প্রমাণের দাবি থাকবে গভীর অন্তর্নিহিত মানে, সাথে শ্রুতিমাধুর্য্য ৷ একটা ভাবসম্প্রসারণ ধরনের কতৃত্বময়তা ৷ কবিতার শিরনাম থাকতে  হবে, তবেই পরমাণু কবিতা লেখা সার্থক হয়ে ওঠে। এই প্রসঙ্গে উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন বহু কবি সাহিত্যিক তাঁদের লেখার উদ্ধৃতি গুলি এক একটা ভালো পরমাণু কবিতা হয়ে গেছে যেমন রবীন্দ্রানাথ ঠাকুর একটি লাইন “অক্ষমের লোভ আলাদিনের প্রদীপের গুজব শুনলেই লাফিয়া উঠে” বা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের কবিতার একটি লাইনের থেকে নিয়ে বলা যায় ‘‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়, পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’’ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার একটি লাইনের থেকে নিয়ে বলা যায় ‘‘ফুল ফুটুক বা না ফুটুক আজ বসন্ত।’’ ঠিক এই উদ্ধৃতির মতো যা একব একটা ভাবসম্প্রসারণ তুল্য হতে হবে, যাতে পাঠক হৃদয়ে দাগ কাটে তবেই পরমাণু কবিতা হয়ে উঠবে এবং কবিকে পরিচিতি দেবে। এই প্রাসঙ্গীকতায় আরও বলেন পরমাণু শব্দের সঞ্চয় বাড়াতে হবে, বাংলা ভাষায় এই রকম একটা পরমাণু শব্দ বা এক শব্দের কবিতা হ’ল  ‘‘ওউম’’ বা ঔঁ। এই শব্দের মধ্যে সারা ব্রম্ভান্ডের শক্তি সমুহ, যেমন ব্রম্ভা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের আধিপত্য বা সৃষ্টি, স্থিতি, লয়ের বিষয় স্বর্গ, মর্ত্ত, পাতালের দেবের আধিপত্য রয়েছে। এরকম খুঁজলে অনেক শব্দ আছে যা বাংলা শাস্ত্রে বিদ্যমান। যা পরমাণু কবিতা লেখার কাজে আসতে পারে। এতদিন এই বিষয়ে কোন সেভাবে কোনও চর্চা ছিলোনা তাই  যেহেতু শুধু পরমাণু কবিতা লিখে স্বনামধন্য হয়েছেন এমন কবি নেই, পরমাণু কবিতা লিখে নাম করার সুযোগ প্রচুর আছে। পরমাণু কবিতা নিয়ে আরও অনেক গবেষণা হবে । বিশ্ববঙ্গ সাহিত্য একাদেমির প্রধান উপদেষ্টা কবি ও সাহিত্যিক শ্রী সঞ্জয় কুমার মুখোপাধ্যায় জানান আগামীদিনে যুথিকা সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদক জানিয়েছেন উৎকৃষ্ট মানের  পরমাণু কবিতা নিয়ে তারা কবিদের পিডিএফ বই প্রকাশ করবেন এবং পরে মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করবেন। অনেক নতুন নতুন কবি পরমাণু কবিতায় হাত পাকাতে পারবেন, সুযোগ আছে পরমাণু কবিতায় স্বনামধন্য কবি হয়ে ওঠার।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
 
WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com