• আজ রাত ১০:৫৪, বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
  • shadinkhobor24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ভারত রাশিয়া তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ৪, ২০২৫ ৬:২৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ৪, ২০২৫ ৬:২৮ অপরাহ্ণ

ভারত রাশিয়া তেল
 

ভারত রাশিয়া তেল কেনায় ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়ন করছে বলে অভিযোগ ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীর। যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগী স্টিফেন মিলার একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি বলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়ন করছে। গতকাল রোববার ফক্স নিউজের জনপ্রিয় টক শো ‘সানডে মর্নিং ফিউচারস’-এ এই অভিযোগ করেন তিনি।

স্টিফেন মিলার বলেন, “ভারত রাশিয়া জ্বালানি চুক্তি, তাতে তারা কার্যত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে অর্থের যোগানদাতা হিসেবে কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট এবং এটি তাঁর কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বহুবার নয়াদিল্লির ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন যেন তারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ভারত এখনো তার নীতিতে অনড়। ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করেই রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাবে।

এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, যদি রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে বড় ধরনের শান্তিচুক্তিতে না আসে, তাহলে রাশিয়ার কাছ থেকে যারা তেল কিনছে, তাদের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে।

ভারত রাশিয়া তেল প্রশাসনের শুল্ক ঘোষণা ও ভারতের ওপর প্রভাব

ইতিমধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫% পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এই চাপ শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের সহযোগী স্টিফেন মিলার জানান, “ভারত রাশিয়া তেল কেনা অব্যাহত রাখলে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”

রাশিয়া ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক এবং জ্বালানি সম্পর্ক বজায় রেখেছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ভারত শুধু তেলই নয়, যুদ্ধবিমান, মিসাইল সিস্টেমসহ বহু সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে থাকে। রাশিয়ার প্রতি এই নির্ভরতা হঠাৎ করে কমিয়ে আনা ভারতের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই বিশ্লেষকদের মত।

✅ ভারত রাশিয়া তেল বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্বিগ্ন। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে যারা রাশিয়ার সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা শোনা যাচ্ছে।

এদিকে চীনও রাশিয়ার বড় তেল ক্রেতা হওয়ায়, ভারতের অবস্থান অনেকটা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের মধ্যেই পড়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের প্রশাসন এটি ভালোভাবে নিচ্ছে না।

ট্রাম্প-মোদি সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন মিলার, তবুও এই ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন নরম মনোভাব দেখাবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ট্রাম্প কিছুটা কঠোর অবস্থান নিলেও, পরবর্তীতে কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা সম্ভব হতে পারে।


 
 
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ