মৌচাক প্রাইভেট কারে দুই লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৪, ২০২৫ ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৪, ২০২৫ ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

মৌচাক প্রাইভেট কারে দুই লাশ উদ্ধার। ধারণা গ্যাস লিক ও কার্বন মনোঅক্সাইডে মৃত্যু। বিস্তারিত পড়ুন ঘটনার পূর্ণ বিবরণ।
মৌচাক প্রাইভেট কারে দুই লাশ উদ্ধার: গ্যাস লিক ও কার্বন মনোঅক্সাইডে মৃত্যু আশঙ্কা
রাজধানীর মৌচাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেট কার থেকে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য মিলেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গাড়ির গ্যাস লিক হয়ে কার্বন মনোঅক্সাইড জমে তাদের মৃত্যু হতে পারে।
ঘটনাস্থল ও প্রাথমিক তদন্ত
গত সোমবার দুপুরে প্রাইভেট কারটি থেকে জাকির (২৪) ও মিজান (৩৮) নামে দুইজনের লাশ উদ্ধার করে রমনা থানা-পুলিশ।
দুজনের শরীর ফুলে ছিল, যা দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ির ভেতরে গরম ও বদ্ধ পরিবেশে থাকার প্রভাব বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, হাসপাতালে থাকা তিনটি সিসি ক্যামেরার প্রায় ৩২ ঘণ্টার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে গাড়িটি পার্কিংয়ে প্রবেশ করে, এরপর আর বের হয়নি।
এই সময়ে বাইরে থেকে কেউ গাড়ির কাছে যায়নি বা ভেতর থেকেও কেউ বের হয়নি।
মৃতদের পরিচয় ও ঘটনার পটভূমি
গাড়ির মালিক জোবায়ের আল মাহমুদ, নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা। তিনি জানান, তিন মাস ধরে জাকির তার গাড়ি চালাচ্ছিল।
গত শনিবার বিমানবন্দরে আত্মীয়কে পৌঁছে দেওয়ার পর জাকির ও তার বন্ধু মিজান হাসপাতালে যান। মিজান তার প্রতিবেশী শিশুকে নিতে গিয়েছিলেন।
রোববার সকালে তারা হাসপাতালে পৌঁছায় এবং রোগী ছাড়পত্র পাওয়া পর্যন্ত গাড়িতে বিশ্রাম নিতে থাকে।
কিন্তু পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সোমবার দুপুরে লাশ উদ্ধার করা হয়।
গ্যাস লিক ও কার্বন মনোঅক্সাইডের প্রভাব
তদন্তে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় গাড়ির ইঞ্জিন ও এয়ার কন্ডিশনার চালু থাকার ফলে ভেতরে প্রচুর কার্বন মনোঅক্সাইড জমে যায়।
এই বিষাক্ত গ্যাস ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করে অজান্তেই মৃত্যু ঘটাতে পারে।
এর আগে ঢাকার সেগুনবাগিচা ও গাজীপুরে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
লিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, গ্যাস লিক হয়ে বিষাক্ত কার্বন মনোঅক্সাইড তৈরি হয়েছে।
তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাবে না।”
সচেতনতার বার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির ভেতরে দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন ও এসি চালু রেখে ঘুমানো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
কার্বন মনোঅক্সাইড গ্যাস রঙহীন ও গন্ধহীন হওয়ায় সহজে বোঝা যায় না, কিন্তু এটি দ্রুত প্রাণঘাতী হতে পারে।
উপসংহার
মৌচাক প্রাইভেট কারে দুই লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি একদিকে ট্র্যাজিক, অন্যদিকে সতর্কবার্তা।
গাড়ির গ্যাস লিক, কার্বন মনোঅক্সাইড ও বদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকা—সব মিলিয়ে এটি একটি প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করে।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সবারই সতর্ক হওয়া জরুরি।
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ