যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ২, ২০২৫ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, আগস্ট ২, ২০২৫ ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি বাড়িয়ে ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব, যদি বেসরকারি খাত ও সরকারের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, যার মধ্যে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল অন্যতম।
🤝 বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব এবং আলোচনার ফলাফল
যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন, গম, ভূট্টা, তুলা ও এলপিজি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে সয়াবিনবীজ আমদানির জন্য ১৩ কোটি ডলারের সমঝোতা চুক্তি হয়েছে, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক দামে মানসম্পন্ন পণ্য কেনা সম্ভব হয়েছে।
📈 যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি ও আমদানির সম্ভাবনা
মোস্তফা কামাল জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ২৪–২৫ লাখ টন সয়াবিনবীজ আমদানি করে, যার মধ্যে ৭–৮ লাখ টন আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তিনি মনে করেন, এ হার বাড়িয়ে ১৫–২০ লাখ টন করা সম্ভব।
এছাড়া, গম, ভুট্টা, তুলা ও এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেও সমঝোতা হয়েছে, যা বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করছে।
🛡️ লবিস্ট ছাড়াই বড় অর্জন: কীভাবে সম্ভব হলো?
বিশ্বের অন্যান্য দেশ লবিস্ট নিয়োগ করলেও বাংলাদেশ তা না করেও যুক্তরাষ্ট্রে পাল্টা শুল্ক কমাতে পেরেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কঠোর পরিশ্রম এবং বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফল।
বিশেষ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
🎯 যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১০–১২ বিলিয়ন ডলার: স্বপ্ন নয়, সম্ভাবনা
মোস্তফা কামালের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রসার ১০–১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। এর জন্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানির ক্ষেত্রেও কৌশলগত পদক্ষেপ দরকার।
সরকার ও বেসরকারি খাত একসাথে কাজ করলে, বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
🏁 উপসংহার
আমাদের পণ্যের মার্কিন বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর পথ এখন অনেকটা পরিষ্কার। তবে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে সমঝোতা বাস্তবায়ন, বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নীতিগত সহায়তা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ