• আজ রাত ৪:১৯, রবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
  • shadinkhobor24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি :বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, আগস্ট ৩, ২০২৫ ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, আগস্ট ৩, ২০২৫ ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি
 

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনার অগ্রগতি, শর্ত, পাল্টা শুল্ক ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও এখনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) চুক্তির খসড়া তৈরি করছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির খসড়া তৈরি শেষে তা বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে। ৭ আগস্ট থেকে পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির গোপনীয়তা ও এনডিএ

গত জুনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে Non-Disclosure Agreement (NDA) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির গোপনীয়তা নিয়ে কিছু বিতর্ক হলেও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের মতে, এতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু নেই। বরং আলোচনা ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘‘চুক্তির বিষয় কিছুটা ফাঁস হয়ে গিয়েছিল, তবে তাতে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া হয়নি।’’ NDA স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত ও চ্যালেঞ্জ

বাণিজ্য চুক্তি আপডেট অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক ও বেসামরিক পণ্য, এলএনজি, জ্বালানি তেল ও কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এতে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শর্তের মধ্যে রয়েছে:

  • চীন থেকে আমদানি হ্রাস
  • যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে অগ্রাধিকার
  • ডিজিটাল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নীতি মানা
  • নিরাপত্তাজনিত শর্ত

চুক্তি কার্যকর হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে (WTO) তা জানাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক নিয়ে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সক্ষমতাই এই চুক্তির সফলতা নির্ধারণ করবে। যদি দেশ স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়, তাহলে চুক্তি করে লাভ হবে না।

তিনি বলেন, ‘‘দেশের সক্ষমতা না থাকলে চুক্তি করেও কোনো লাভ হবে না।’’ তাই সরকার এই দিকগুলো বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

কৃষিপণ্য ও এলএনজি আমদানি

বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশাল পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানি করে, যার মধ্যে সয়াবিন, ভুট্টা, গম উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্র এই খাতেই আগ্রহী। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

এইসব আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয়তা পূরণ ও বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি ডলারের ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বোয়িং যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এখনো আলোচনার বিষয় নয়। যদিও পাল্টা শুল্ক আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য বিবেচ্য, তবে বাংলাদেশের বিমানের পরিচালন সক্ষমতা না বাড়ালে এটি তেমন কার্যকর হবে না বলেও বাণিজ্য উপদেষ্টা মত দিয়েছেন।

উপসংহার

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের রপ্তানি, আমদানি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। তবে চুক্তি যেন দেশের স্বার্থ রক্ষা করে হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

 
 
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ