শ্রম আইন সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্রের তাগিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৪, ২০২৫ ২:১০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৪, ২০২৫ ২:১০ পূর্বাহ্ণ

শ্রম আইন সংস্কার যুক্তরাষ্ট্রের তাগিদ, বিজিএমইএর সঙ্গে বৈঠকে শ্রম অধিকার, রপ্তানি সুযোগ ও তুলা আমদানির বিষয়ে আলোচনা।
শ্রম আইন সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্রের তাগিদ: বিজিএমইএর সঙ্গে বৈঠকে নতুন দিকনির্দেশনা
বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকাস্থ দূতাবাস গুরুত্বারোপ করেছে।
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে এক বৈঠকে দূতাবাসের প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইন হালনাগাদের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে।
বৈঠকের মূল প্রেক্ষাপট
রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের লেবার অ্যাটাশে লীনা খান,
ফরেন কমার্শিয়াল সার্ভিস অ্যাটাশে পল জি ফ্রস্ট এবং ফরেন অ্যাগ্রিকালচারাল সার্ভিস অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ফয়সাল সামাদ ও শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ বৈঠকে অংশ নেন।
বিজিএমইএর সভাপতি বৈঠকে জানান, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তারা ৮১টি শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ করেছে, যা শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা করেছে।
পাল্টা শুল্ক ও রপ্তানি সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের নতুন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা তৈরি পোশাকে যদি কমপক্ষে ২০% যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়, তবে সেই পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক থেকে আংশিক অব্যাহতি দেওয়া হবে। বিজিএমইএ নেতারা বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চান—কীভাবে এই কাঁচামালের হিসাব, স্বচ্ছতা এবং ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা হবে।
তুলা ও ম্যান-মেইড ফাইবার আমদানির উদ্যোগ
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে একটি গুদাম স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
বিজিএমইএ নেতারা জানান, তাঁরা তুলার পাশাপাশি পলিয়েস্টার ও নাইলনের মতো ম্যান-মেইড ফাইবার আমদানিতেও আগ্রহী।
এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল বিজিএমইএর নেতাদের আসন্ন “সিলেক্ট ইউএসএ” সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এটি বাংলাদেশি পোশাক উদ্যোক্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ এনে দেবে।
শ্রম আইন সংস্কারের গুরুত্ব
বাংলাদেশের শ্রম আইন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হালনাগাদ হলে কেবল শ্রমিকদের অধিকারই সুরক্ষিত হবে না,
বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানও শক্তিশালী হবে। পোশাক রপ্তানি খাতে এটি বড় সুযোগ এনে দিতে পারে।
শ্রম আইন সংস্কারের সুফল
- শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা বৃদ্ধি
- বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ
- রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ
- আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিল্প পরিচালনা
উপসংহার
শ্রম আইন সংস্কার বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং এটি হবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র ও বিজিএমইএর এই আলোচনা ভবিষ্যতে শ্রম অধিকার, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ