• আজ বিকাল ৫:৫৭, রবিবার, ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • shadinkhobor24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গাজীপুর বেকার শ্রমিকদের বাস্তবতা ও পেশা বদলের গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ৯, ২০২৫ ৮:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ৯, ২০২৫ ৮:০৫ অপরাহ্ণ

গাজীপুর বেকার শ্রমিক
 

গাজীপুরে কারখানা বন্ধে হাজারো শ্রমিক বেকার, কেউ সবজি বিক্রি, কেউ অটোরিকশা চালাচ্ছেন, অনেকে এখনো চাকরির অপেক্ষায়—জানুন বিস্তারিত।

গাজীপুর বেকার শ্রমিক চাকরি হারিয়ে সবজি বিক্রিতে মনির শেখ

এক যুগের বেশি সময় বেক্সিমকোর পোশাক কারখানায় চাকরি করেছেন মনির শেখ। চাকরি চলে যাওয়ার পর অনেক কারখানায় ঘুরেও কাজ পাননি।

কারণ, যখনই জানা যায় তিনি আগে বেক্সিমকোতে কাজ করেছেন, তখনই কর্তৃপক্ষ না করে দেয়। বাধ্য হয়ে এখন সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

এই গল্প শুধু মনির শেখের নয়, বরং অনেক গাজীপুর বেকার শ্রমিকের বাস্তব চিত্র।

গাজীপুর বেকার শ্রমিক গ্রামে ফেরা ও নতুন পেশা বেছে নেওয়া

যশোরের নূরপুর গ্রামের জামাল হোসেন গাজীপুরে ৮-৯ বছর বেক্সিমকোতে কাজ করেছেন। চাকরি চলে যাওয়ার পর গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন এবং কিছুদিন হালচাষ করেছেন।

কিন্তু সেই কাজ ভালো না লাগায় আবার গাজীপুরে ফিরে চাকরি খুঁজছেন।

কিন্তু এখনও নতুন চাকরি পাননি। একইভাবে আনিসুর রহমান চাকরি না পেয়ে এখন ফেরি করে পণ্য বিক্রি করছেন।

কারখানা বন্ধ ও প্রভাবিত শ্রমিকদের সংখ্যা

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেক্সিমকো গ্রুপের ১৩টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।

এতে ২৮ হাজার ৫১৩ শ্রমিক বেকার হন। শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, শুধু গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে জুলাই পর্যন্ত গাজীপুরে ১০৬টি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

এর মধ্যে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাহমুদ জিনস, ডার্ড কম্পোজিট, পলিকন লিমিটেড, টেক্সটিল ফ্যাশন, ক্ল্যাসিক ফ্যাশন, লা-মুনি অ্যাপারেলস ইত্যাদি।

গাজীপুরের নীরব শিল্পাঞ্চল

আগে যেখানে শ্রমিকদের ভিড়ে সড়কে হাঁটা কঠিন ছিল, এখন সেখানে নীরবতা। শত শত ভাড়া বাসা খালি পড়ে আছে, অনেক মালিক ব্যাংক ঋণ শোধ করতে পারছেন না।

স্থানীয় মুদি দোকানি হাবিবুল্লাহ বললেন, আগে দিনে ৫০-৬০ হাজার টাকার বিক্রি হতো, এখন হয় মাত্র ৫-১০ হাজার টাকার।

পেশা বদলে জীবিকা রক্ষা

অনেক গাজীপুর বেকার শ্রমিক এখন অটোরিকশা চালাচ্ছেন, ফেরি করে পণ্য বিক্রি করছেন কিংবা সবজি বিক্রি করছেন।

উদাহরণস্বরূপ, মাহমুদ জিনস লিমিটেডের শ্রমিক মোস্তাফিজুর রহমান এখন অটোরিকশা চালিয়ে মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় করছেন, যদিও এই পেশা তাঁর পছন্দ নয়।

গাজীপুর বেকার শ্রমিক সংগঠনের মন্তব্য

জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, গত এক বছরে চাকরি হারানোদের অধিকাংশই বেকার বা গ্রামে ফিরে গেছেন।

যারা এখনও কাজ করছেন, তাদের মধ্যেও ছাঁটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে।


উপসংহার
গাজীপুর বেকার শ্রমিকদের গল্প শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং জীবনের মোড় ঘোরানোর কাহিনি।

চাকরি হারানো মানুষগুলো নতুন পেশায় খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন, তবে স্থায়ী সমাধান ছাড়া তাদের সংগ্রাম দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

 
 
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ