• আজ সন্ধ্যা ৬:১২, মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • shadinkhobor24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

অভিজিৎ হত্যা মামলায় ফারাবীর জামিন বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ১১, ২০২৫ ৭:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ১১, ২০২৫ ৭:০৮ অপরাহ্ণ

অভিজিৎ হত্যা মামলায় ফারাবীর জামিন
 

অভিজিৎ হত্যা মামলায় যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ফারাবীর হাইকোর্ট প্রদত্ত জামিন বহাল। মামলার আপিল, আদালতের যুক্তি ও ঘটনাপ্রবাহ জানুন বিস্তারিত

অভিজিৎ হত্যা মামলায় ফারাবীর জামিন বহাল

ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শফিউর রহমান ফারাবীর হাইকোর্ট প্রদত্ত অন্তর্বর্তী জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের করা স্থগিতের আবেদনে আদালত ‘নো অর্ডার’ দেওয়ায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকে।

আদালতের রায় ও জামিনের প্রেক্ষাপট

২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান রায় দেন। রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক আসামি ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সেই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর হাইকোর্টে আপিল করেন ফারাবী।

২০২২ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট আপিল গ্রহণ করে। এরপর জামিন চেয়ে আবেদন করলে গত ৩০ জুলাই হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন স্থগিতের আবেদন জানালে বিষয়টি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওঠে। চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ দেন, যার ফলে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকে।

ফারাবীর পক্ষে যুক্তি

ফারাবীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান আদালতে যুক্তি দেন যে, মামলার ১৬৪ ধারায় ফারাবীর কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেই।

চারজন সাক্ষী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও, তাঁদের কেউই ফারাবীর নাম উল্লেখ করেননি।
এছাড়া, ফারাবীর প্ররোচনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততাও প্রমাণিত হয়নি।

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে।

তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা গুরুতর আহত হন।
অভিজিৎ ছিলেন মুক্তচিন্তার পক্ষে সোচ্চার এবং তাঁর লেখালেখি চরমপন্থীদের রোষানলে পড়েছিল।

মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্র

২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ৬ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে।


রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ২৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর ভিত্তিতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রায় ঘোষণা করা হয়।

আদালতের রায়ের সারসংক্ষেপ

  • ৫ আসামি: মৃত্যুদণ্ড
  • ১ আসামি (ফারাবী): যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  • ফারাবীর বিরুদ্ধে প্রমাণ সীমিত ছিল বলে মৃত্যুদণ্ড নয়, যাবজ্জীবন দেওয়া হয়।
  • মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে।

অভিজিৎ হত্যা মামলায় ফারাবীর জামিন বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী প্রক্রিয়া

ফারাবীর জামিন বহাল থাকলেও আপিল শুনানি এখনো বিচারাধীন। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে তাঁর ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

মামলার গুরুত্ব

অভিজিৎ হত্যা মামলায় ফারাবীর জামিন বাংলাদেশে মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়।


এটি চরমপন্থী সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগের কঠোর অবস্থানের প্রতীক।

 
 
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ

error: Content is protected !!
error: Content is protected !!