• আজ রাত ৩:১১, বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • shadinkhobor24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জে ত্রাণের জন্য হাহাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ২১, ২০২২ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ২১, ২০২২ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

 

সেলিম আহমদ তালুকদার, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে বানভাসি মানুষেরা বাঁচার জন্য লড়াই করছেন। এখনও সারা দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন এ জেলা। পানিবন্দী এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট। কেউ আধাপেট খেয়ে আছেন, কেউবা না খেয়ে। ফিরেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। পাওয়া যাচ্ছে না মোবাইলের নেটওয়ার্ক। তবে এ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে থাকলেও শহর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। ত্রাণ বিতরণের নৌকা দেখলেই সাঁতরিয়ে আবার কখনো নৌকা নিয়ে দৌঁড়ঝাপ করেন বন্যার্তরা। আশ্রয় কেন্দ্রে জেলা প্রশাসনের একবেলা ভুনা খিচুরী জুটলেও আরেক বেলা খাবারের জন্য অপেক্ষায় থাকেন তারা।

এদিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা তিনগুন দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করা বিপাকে পড়েছেন দুর্গতরা। চুরি,ডাকাতি’র আতঙ্কে নির্ঘম রাত কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জেলা সদরের সাথে উপজেলার যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কালীপুর এলাকার ইশবাল জানান, কয়দিন ধরে পানি নাই। ঘরে খাবার নেই। বিস্কুট খেয়ে আছি। মাঝে বৃষ্টির পানি খেয়েছি, এখন হাওরের পানি খাই। পানির জন্য এভাবেই শহর-গ্রামে হাহাকার চলছে। শহরে কথা হয় বনানীপাড়া এলাকার রিকশাচালক ইয়াসিন মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগমের সাথে স্বামী অসুস্থ্য। বন্যায় ঘরে গলা পানি উঠেছে। থাকার জায়গা নাই। খাবারও নেই। সন্তানদের নিয়ে শহরের পবন কমিউনিটি সেন্টারে আশ্রয় নেই। বন্যার পানিতে ঘর তলিয়ে যাওয়া গত পাঁচ দিন ধরে না খেয়ে আছি। কেউ কোনো খবর নেয় না। গতকাল(২০ জুন) সারাদিন ত্রাণের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেও ত্রাণ পাইনি। পেটের খিদায় হাটতে পারছিলাম না।

সামিয়া বেগম বলেন, ঘরে এখনও কোমর পানি। পরিবারের পুরুষরা দিনমজুরের কাজ করেন। বন্যার কারণের তারা কাজ করতে পারছেন না। সবাই এখন না খেয়ে আছি তিন দিন ধরে। শুনলাম আর্মিরা ত্রাণ দেয়। এই খবর শুনে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় গেলাম গিয়ে দেখি ত্রাণের পরিবর্তে খিচুরি দেয়া হচ্ছে। একজন ব্যক্তি একটি খিচুরির প্যাকেট পায়। এখন এক প্যাকেট খিচুরি একজনের হবে না। সংসারে স্বামী সন্তানসহ ছয়জন লোক এক প্যাকেট খিচুরি খেয়ে কীভাবে বাঁচবো। এভাবেই মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১ বিগ্রেডের কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার শওকত বলেন, সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্যার্তদের সহযোগিতার দায়িত্বে আছি। আমরা পানিবন্দি মানুষদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছি। যারা পানিবন্দি রয়েছেন, তাদের উদ্ধার অব্যাহত রয়েছে। ত্রাণের জন্য যারা আসছেন, চেষ্টা করছি তাদের খাবার বিতরণ করতে। পানিবন্দি সবারই প্রয়োজন ত্রাণ, কিন্তু আমাদের যা আছে তাদের মধ্যে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, জেলায় ৫ শ মেট্রিক টন চাল ও ৮০ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সেনাবাহীনি, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, র‌্যাব বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রান বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।

অন‌্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘরে ঢোকা পানি নামতে শুরু করেছে। ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। তবে এই বন্যায় সুনামগঞ্জে রাস্তা-ঘাটসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। বর্তমানে সুরমা নদীর পানি সমতল ৮.০৪ মিটার যা বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 
 
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ