• আজ সন্ধ্যা ৭:২৩, বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
  • shadinkhobor24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী গুলিতে আহত: পুলিশি তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীন খবর ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ২, ২০২৫ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, আগস্ট ২, ২০২৫ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী গুলিতে আহত
 

বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী গুলিতে আহত, মহাখালীতে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে; পুলিশ এখনো হামলাকারী ধরতে পারেনি।

বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী গুলিতে আহত: মহাখালীতে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ

রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের এক কর্মচারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন। বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী গুলিতে আহত ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী স্টাফ কোয়ার্টারে থাকা একজন কর্মীকে হাসপাতালের পাশেই নিশ্ছিদ্রভাবে গুলি করা হয়। আহতের নাম জামান হোসেন (৪০), তিনি হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


ঘটনার বিবরণ

শুক্রবার রাত সোয়া আটটার সময় জামান হোসেন বাসা থেকে বের হয়ে হাসপাতালের কাছে একটি দোকানে চা পান করতে বসেন। তখন মুখোশ পরা দু’জন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। গুলির একটি আগে তার ডান চোখের পাশে লাগে। ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জামানের ভাই সালাউদ্দিন সজল প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, জামান জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পাশে স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন। তিনি রাতের ওই সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘনিষ্ঠ আশপাশে কোনো সন্দেহজনক প্রেক্ষাপট না দেখলেও হঠাৎ করে হামলার শিকার হন। আহতের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চোখের পাশে গুলির চিহ্ন বিদ্যমান রয়েছে, যা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হচ্ছে।


বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী গুলিতে আহততদন্ত ও পুলিশের বক্তব্য

রাতে যোগাযোগ করা হলে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সারোয়ার প্রথম আলোকে জানান, “কারা, কেন জামানকে গুলি করেছে, তা এখনো জানা যায়নি।” হামলাকারীদের কোনো গ্রেফতার আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজসহ নানা দিক থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি। অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে।”

পুলিশ সূত্রে জানানো হচ্ছে, হামলাকারীদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারির জন্য স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে, পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত টহল বাড়ানো হয়েছে। তবে যে কোনও রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা অপরাধ মূলক কারণ ঘটনার পেছনে আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না এবং তদন্ত তদারকিতে রয়েছে।


হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে নিরাপত্তা হুমকি উদ্বেগ ও প্রেক্ষাপট

হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এই ধরনের সহিংস ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও স্থানীয় পরিবেশের অস্থিতিশীলতার প্রতিফলন। স্টাফ কোয়ার্টার, হাসপাতালের কর্মী ও রোগী পরিবারের সদস্যরা সাধারণত বিশ্বাস করেন যে তাদের আশপাশে আপেক্ষিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। কিন্তু এই ঘটনার পর সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহাখালী এবং আশপাশের এলাকাগুলো — ব্যস্ত পথ, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপস্থিতি এটি অপরাধীতা প্রতিরোধে কখনো কখনো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষুদ্র সংঘর্ষ থেকে শুরু করে অস্ত্রধারী হামলা—এসব ঘটনা নিয়মিত নজরদারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের অভাব হলে বাড়তে পারে। যাইহোক, পুলিশি কার্যক্রম ও স্থানীয় নেতাদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।


দুর্বৃত্তদের গুলিতে হাসপাতাল কর্মী আহত পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া

জামান হোসেনের পরিবার ও তাঁর সহকর্মীরা এই হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তার জন্য দাবি জানিয়েছেন। তার ভাই ও পরিজনরা চান, শুধু ঘটনার অনুসন্ধান নয়, ভবিষ্যতে এ ধরণের হামলা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ও আশপাশে কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্মস্থলে বৈঠকও হতে পারে বলে জানা গেছে।

সহকর্মীরা বলছেন, জামান ছিলেন কর্মী সমাজে সক্রিয় ছিল এবং তার বিরুদ্ধে কোনো পূর্বশত্রুতা থাকলে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। তারা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনার মূল কারণ ও দায়ীদের বের করে আনার মাধ্যমে অন্যদের জন্য সতর্কতা বার্তা দিবে।


বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী গুলিতে আহত প্রতিরোধ ও পরামর্শ

এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

  • হাসপাতাল ও স্টাফ কোয়ার্টারের আশপাশে নৈশ টহল ও নজরদারি বাড়ানো
  • কর্মচারীদের জন্য জরুরি সিকিউরিটি হটলাইন এবং নিরাপত্তা শিক্ষা
  • সিসিটিভি ক্যামেরা মেইনটেন্যান্স ও লাইভ মনিটরিং উন্নতকরণ
  • স্থানীয় কমিউনিটি লিডার ও পুলিশি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন
  • প্রত্যেক হামলার সময়উপযোগী দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট তৈরি

এছাড়া, প্রত্যক্ষদর্শী এবং আশপাশের মানুষদের সহযোগিতায় “আইনশৃঙ্খলা রক্ষা” বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে দুর্বৃত্তদের ছায়া-চালনাকে সীমাবদ্ধ করা যায়।


উপসংহার

বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী গুলিতে আহত হওয়া ঘটনা একটি সংকেত যে, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিরাপত্তা আরও দৃঢ়ভাবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। সময়মতো তদন্ত, গ্রেফতারি ও সুবিচার না হলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়তে পারে। পুলিশি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে, পরিবার ও কর্মীদের সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, এবং স্থানীয় কমিউনিটির সহযোগিতায় এই ধরনের হামলা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

এ ঘটনায় দ্রুততার সাথে দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবিতে জনমনে প্রত্যাশা রয়েছে—যাতে হাসপাতাল কর্মী ও রোগী পরিবার সকলে নিরাপদে তাদের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।


 
 
স্বাধীন খবর ডটকম/আ আ
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ